"মিসওয়াক ব্যবহার করে যুদ্ধ জয়"
"মিসওয়াক ব্যবহার করে যুদ্ধ জয়"
____
পারস্যে মুসলিম বাহিনীর অভিযান চলছে। যুদ্ধের প্রথম কয়েক দফার অবস্থা মুসলিমদের অনুকূলে ছিলনা। তখন মুসলিম বাহিনীর সেনা কমান্ডার সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা.) তাঁর লোকদের ফর্মেশন এবং রিসোর্সের পুনর্মূল্যায়নের জন্য একত্রিত করলেন। যোদ্ধার সংখ্যা বা সরঞ্জামে তো কোনো কমতি নেই,তবে সমস্যাটা কোথাায়
কমান্ডার সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা.) তখন ভাবলেন হয়ত নিজেদের পাপের কারণে আল্লাহর পক্ষ থেকে এটা শাস্তি। সবাইকে বললেন আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে, ছুটে যাওয়া কোনো আমল আদায় করে ফেলতে। তাঁরা ছিলেন উম্মাতের প্রথম সারির মুসলিম। ঈমান ও আমলের দিক দিয়ে তাঁরা অনেক অনেক এগিয়ে থাকলেও, সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা.)- এর বিশ্বাস ছিল নিশ্চয়ই আল্লাহর বা রাসূল ﷺ এর কোনো আদেশ হয়ত অবহেলা করা হয়েছে। কোন আদেশ অবহেলা করা হয়েছে এটা তালাশ করতে গিয়ে অবশেষে সাদ রা. এর মনে হলো তাঁরা মিসওয়াকের সুন্নাহর অবহেলা করেছেন। রাসূল ﷺ প্রতি ওয়াক্ত সালাতের আগে মিসওয়াক করতেন, কিন্তু তাঁরা যুদ্ধের ময়দানে এই সুন্নাহ পালন করছিলেন না। এটা মনে পড়তেই তিনি সব যোদ্ধার নিকট মিসওয়াক বিতরণ করলেন এবং তাদেরকে আদেশ করলেন মিসওয়াকের সুন্নাহ আদায় করতে। তখন কেউই প্রশ্ন তোলে নি - যুদ্ধে জেতার জন্য দাঁত মাজবো কেন? সবাই আদেশ পালন করলেন।
পারস্য সেনার পক্ষ থেকে এক গুপ্তচর ইতোমধ্যে মুসলিমদের ক্যাম্পে এসে পৌঁছে গেছে। সে যখন দেখলো মুসলিমরা ডালপালা দিয়ে সবাই এক যোগে মিসওয়াক করা শুরু করে দিয়েছে, তার চক্ষু চড়কগাছ। উল্লেখ্য আরবদের দুই পাশে রোমান ও পারস্য সাম্রাজ্য থাকলেও তারা কেউই কখনো উত্তপ্ত মরুভূমি পেরিয়ে এসে আরবদের আক্রমণ করে নি। তাদের সবাই আরবদের বর্বর, হিংস্র বলে ভাবত। এই ঘটনা দেখে ভয়ে গুপ্তচরদের ঘাম ছুটে গেলো। আল্লাহ তাদের মনে খওফ ঢুকিয়ে দিলেন। তারা পারস্য সেনাদের খবর দিলো - তারা আমাদের জীবন্ত খেয়ে ফেলার জন্য দাঁতে শান দিচ্ছে। তারা নরখাদক।
খবরটা বাতাসের সাথে ছড়িয়ে গেল। আতঙ্কে অনেক সেনা দুর্গসমূহ ত্যাগ করে পালালো। পরে মুসলিমরা প্রতীক্ষিত বিজয়ের স্বাদ পায়।
____
@আলিফ

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন