আলাদীন ও তার আশ্চর্য প্রদীপের জীনের গল্পে লুকিয়ে থাকা শিরক

আমদের সবার আলাদীনের আশ্চর্য প্রদীপ এর গল্প জানা। আরব্য রজনীর চমকপ্রদ গল্পটি সারা দুনিয়া জুড়ে সমাদৃত। কিন্তু আজ এ কাহিনীর মধ্যে লুকিয়ে থাকা শিরক নিয়ে আলোচনা করবো।


[
গল্পের আলোচনার প্রথমে বলে রাখি গল্পের মূল চরিত্র আলাদীন এর নাম নিয়ে। এর মূল নাম আলাউদ্দিন কিন্তু পশ্চিমা উচ্চারণে তা আলাদীন হয়ে গেছে। যেমন সালাহউদ্দিন আইয়্যুবীকে তারা ডাকতো সালাদিন নামে। আর গল্পের প্রদীপে থাকা জীনটা হয়ে গেলো জিনি]



গল্পে দেখা যায় আলাদীন প্রদীপে ঘষা দিলে তা থেকে একটা জীন বের হয়ে তার ইচ্ছা পূরন করে অথবা কোন বর্ণনায় ৩ টা ইচ্ছা পূরন করে। আলাদীন তার কাছে বিভিন্ন জিনিস চায়। কিন্তু মুসলিম হিসেবে আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে কোন কিছু চাওয়া শিরক।
আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহর কাছে রিযিক চাও এবং তাঁরই ইবাদত করো’ (আনকাবুত : ১৭)।
সুতরাং গাইরুল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া বা গাইরুল্লাহকে ডাকা ‘শিরকে আকবার। গল্পটির মাধ্যমে আমরা আমাদের শিশুদেরকে আল্লাহর কাছে না প্রার্থনা করে জিনের কাছে চাওয়া  শিখাচ্ছি।অথচ কুরআনুল কারিমে চাওয়ার পদ্ধতি বর্ণিত রয়েছে, ‘এবং তোমাদের রব (প্রতিপালক) বলেছেন, আমার কাছে চাও (প্রার্থনা কর); আমি তা কবুল করব বা তোমাদের দেব। (সুরা মুমিন ৬০)
এজন্যেই দেখবেন যদি আলাদীনের চেরাগ পেলে তুমি কোন ৩ টা জিনিস চাইবে এমন প্রশ্ন শোনা যায়। ইশ, আমার কাছে যদি আলাদীনের চেরাগ থাকত এমন আক্ষেপ শোনা যায়। আবার গল্পে আলাদীনের কিছু লাগলেই সে চেরাগে ঘষা দেয় এবং জীন হাজির হয়ে তার ইচ্ছা পূরন করে।  হাদিসে এসেছে ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সময়ে একজন মুনাফিক ছিল। সে মুমিনদেরকে কষ্ট দিত। কেউ কেউ বললেন, চলুন আমরা রাসুলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এই মুনাফিক হতে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এই ধরণের  মুক্তি আমার থেকে চাওয়া উচিত নয়, বরং তা আল্লাহর কাছেই চাইতে হবে।’ (আত-তাবারানি)

একই কথা ইচ্ছা পূরণ করা পরীর গল্পের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আমাদের সবার উচিত এসব আজগুবি গল্প বাদ দিয়ে আগামী প্রজন্মকে ইসলামের গৌরবান্বিত ইতিহাসের সাথে পরিচিত করানো। ইসলামের বীর পুরুষদের গল্প শুনানো।


#Alif




মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি